আলুবোখারা ।

Agro Bazar সদস্য এর মাধ্যমে বিক্রির জন্য29 অক্টো 5:59 পিএমগাজীপুর, ঢাকা বিভাগ

৳ ১,০০০

আলুবোখারাঃ
==========
আলুবোখারা (Prunus domestica) বাংলাদেশের স্বল্প ব্যবহৃত একটি উচ্চমূল্যের মশলা ফসল।সপ্তদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে আলুবোখারার উন্নত জাতগুলো উদ্ভাবিতহয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শীতপ্রধান ও অবউষ্ণ এলাকায় বিশেষ করে মধ্য, দক্ষিণ ও

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, চীন, ভারত, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণআমেরিকায় ব্যাপকভাবে আলুবোখারার আবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে এটি বিভিন্ন নামেপরিচিত, যেমন- ইংরেজিতে প্লাম, গেজ, গার্ডেন প্লাম, প্রুন, প্রুন প্লাম, বাংলাদেশ ও ভারতে আলুবোখারা নামে পরিচিত।আশ্চর্য ধরনের সুস্বাদুও রসালো এ ফল ফ্রেশ খাওয়া চলে অথবা চিনি, মরিচ ও সরিষার তেল সহযোগে চাটনিরমতো করে অথবা বিভিন্ন উপাদান যোগ করে রান্না করে খাওয়া হয়। আলুবোখারা দিয়েজ্যাম, জেলি, চাটনি, কেক, আচার প্রভৃতি তৈরি করা যায়। মধ্য ইংল্যান্ডেসিডার জাতীয় অ্যালকোহলিক বেভারেজ যা প্লাম জাবকাস নামে পরিচিত তা আলুবোখারাথেকেই প্রস্তুত করা হয়। শুকনা আলুবোখারা (যা প্রুন নামে পরিচিত) মিষ্টি, রসালো এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এতে খাদ্যশক্তি কম (৪৬ কিলোক্যালরি)থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী। এতে যথেষ্ট পরিমাণে পটাসিয়াম, ফ্লোরাইড ও লৌহ রয়েছে, যা দেহকোষের সুরক্ষার জন্য উপযোগী। এর অন্যান্যভিটামিন শ্বেতসার মেটাবলিজমে ও হাড়ের গঠনে ফসফরাস এবং ভিটামিনকে রক্ত জমাটবাঁধতে সহায়তা করে ও বৃদ্ধদের আলঝেইমা রোগ প্রতিরোধ করে।উৎপাদনপ্রযুক্তি : আলুবোখারা রোজেসি পরিবারভুক্ত একটি ফলজাতীয় মশলা ফসল।অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক জাতগুলো বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ধরেথাকে। যেমন- তাইওয়ানে জানুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে ফুল ফোটে। এরফল মধ্যমাকৃতির ১ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত ব্যাসযুক্ত, গোলাকার ও ওভাল হয়।আবহাওয়াও মাটি : সাধারণত শীতপ্রধান ও অবউষ্ণ আবহাওয়া আলুবোখারা চাষের জন্যউপযোগী। ০-৭.২ ডিগ্রি সেন্টিমিটার তাপমাত্রা এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। অবউষ্ণএলাকার জন্য শীতকালে শৈত্যায়ন হয়ে শীতের পর ফুল আসে এবং ফলধারণ করে।আলুবোখারা রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও সুনিষ্কাশিত উর্বর বেলে দোঅাঁশ মাটিতেভালো হয়। পাহাড়ের ঢালে ও পাহাড়ের উপরে ভালো বায়ু চলাচল উপযোগী ও পর্যাপ্তসূর্যালোকে এর উৎপাদন ভালো হয়।জমি তৈরি : যে জমিতে অন্য ফসলভালো হয় না সে জমি আলুবোখারা চাষের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। বাগানআকারে চাষ করতে হলে নির্বাাচিত জমি ভালো করে চাষ ও মই দিয়ে সমতল এবংআগাছামুক্ত করে দিতে হবে। পাহাড়ি এলাকা, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার বা পুকুরপাড়ে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে জমিতে চাষ না দিয়ে শুধু পরিষ্কার করে নিলেইচলবে।জাত : বারি আলুবোখারা-১ : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাইনস্টিটিউটের মশলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত বারি আলুবোখারা-১ জাতটি২০১৩-১৪ সালে অনুমোদন করা হয়। এদেশের মাটিতে ভালো ফলন দিচ্ছে। এর গাছমাঝারি আকারের, ৫ থেকে ৬ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হয়ে থাকে। তবে শাখা ছাঁটাই নাকরলে এর গাছ ১২ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার পর্যন্ত বিস্তার লাভ করতে পারে।ফেব্রুয়ারি মাসে এ জাতটিতে ফুল আসে আর জুন মাসে ফল পাকে। আকর্ষণীয় উজ্জ্বললাল রঙের মাঝারি আকারের (৮.৬৬ গ্রাম/ফল) সুগন্ধিযুক্ত ফল। এর ফলের খাদ্যাংশবেশি (৯৭ শতাংশ) এবং মাঝারি টক মিষ্টি স্বাদের (টিএসএস ১১.০)। গাছে প্রচুরফল ধরে (গড়ে ১৪০০টি), ১১.৩ কেজি বা হেক্টরপ্রতি ৭.০৩ টন। এ জাতটিতেরোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক কম।রোপণ পদ্ধতি ও সময় : সমতল ভূমিতেআলুবোখারা চারা সাধারণত বর্গাকার বা ষড়ভুজী প্রণালিতে লাগানো যায়। কিন্তুউঁচু-নিচু পাহাড়ে কন্টুর রোপণ প্রণালি অনুসরণ করতে হবে। মে থেকে অক্টোবরমাস পর্যন্ত আলুবোখারা চারা রোপণ করা যায়।মাদা তৈরি : চারারোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে উভয় দিকে তিন থেকে চার মিটার দূরত্বে ৬০x৬০x৬০সেন্টিমিটার মাপের গর্ত করতে হবে। প্রতি গর্তে ১৫ থেকে ২০ কেজি কম্পোস্ট বাপচা গোবর, ৩ থেকে ৫ কেজি ছাই, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমওপি সারপ্রয়োগ করে গর্তের উপরের মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে।গর্ত ভরাট করার ১০ থেকে ১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে।চারা-কলমরোপণ ও পরিচর্যা : এক বছর বয়সী সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত চারা-কলম রোপণের জন্যনির্বাচন করতে হবে। গর্তে সার প্রয়োগের ১০ থেকে ১৫ দিন পর নির্বাচিতচারা-কলমটি গর্তের মাঝখানে সোজাভাবে লাগিয়ে তারপর চারদিকে মাটি দিয়ে চারারগোড়া সামান্য চেপে দিতে হবে। রোপণের পরপর খুঁটি দিয়ে চারা-কলমটি খুঁটিরসঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। অতঃপর প্রয়োজনমতো পানি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।গাছের সার প্রয়োগসারের নাম গাছের বয়স১-৩ বছর ৪-৭ বছর ৮-১০ বছর ১০ বছরের ঊর্ধ্বেগোবর/কম্পোস্ট ১০-১৫ ১৫-২০ ২০-২৫ ২৫-৩০ইউরিয়া (গ্রাম) ২০০-৩০০ ৩০০-৪০০ ৫০০-৮০০ ১০০০টিএসপি (গ্রাম) ১৫০-২০০ ২০০-৩০০ ৩০০-৪০০ ৫০০এমওপি (গ্রাম) ১৫০-২০০ ২০০-৩০০ ৩০০-৪০০ ৫০০।আশানুরূপ গুণগতমানসম্পন্ন ফল পেতে হলে আলুবোখারায় পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করা আবশ্যক। গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সারের পরিমাণ বাড়বে।প্রতিটিগাছের জন্য সারের পরিমাণ : সবটুকু সার ৩ ভাগ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ, ভাদ্র-আশ্বিন ও মাঘ-ফাগুন মাসে প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিবার সার দেয়ার পরপ্রয়োজনে পানি দিতে হবে।আগাছা দমন : গাছের গোড়া নিয়মিত পরিষ্কারকরতে হবে। পাহাড়ের ঢালে, বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার ধার বা পুকুর পাড়ে লাগানোগাছের গোড়ায় আগাছা কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে।সেচ প্রয়োগ : চারারোপণের প্রথম দিকে প্রয়োজনমতো সেচ দেয়া দরকার। খরা বা শুকনো মৌসুমে পানিসেচ দিলে ফল ঝরা কমে, ফলন বৃদ্ধি পায় এবং ফলের আকার ও আন্যান্য গুণাগুণভালো হয়।ডাল ছাঁটাইকরণ : চারা অবস্থায় গাছকে সুন্দর কাঠামোদেয়ার জন্য অবাঞ্ছিত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করে রাখতে হবে। ছাঁটাইয়েরমাধ্যমে গাছের মরা, রোগাক্রান্ত ও পোকামাকড় আক্রান্ত ডালপালা কেটেপরিষ্কার করতে হবে।রোগবালাই ব্যবস্থাপনা : বারি আলুবোখারা-১-এরোগবালাই তেমন দেখা যায় না। শুধু পাতার দাগ বা লিফ স্পট রোগ দেখা যায়।রিডোমিল বা এ জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করেই তা দমন করা যায়।


অভিযোগ করুন

যোগাযোগ করুন

  • 01735009377

 

নিরাপদ থাকুন!

  • সর্বদা বিক্রেতার সাথে সরাসরি দেখা করবেন
  • আপনি যা কিনতে যাচ্ছেন তা দেখার পূর্বে কোনো টাকা পরিশোধ করবেন না
  • অচেনা কারও নিকট টাকা পাঠাবেন না

দেখুন:

  • অবাস্তব মূল্য
  • অতিরিক্ত ফি
  • অগ্রিম অর্থ প্রদানের অনুরোধ
  • ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য অনুরোধ

নিরাপদে থাকার আরও কিছু কৌশল

এই মেম্বারের পেইজ ভিজিট করুন
Agro Bazar

For a green world


বিজ্ঞাপনটি শেয়ার করুন