সাগরের পা থেমে যায়। সে ধীরে ধীরে ফিরে তাকায়। নদী ঠিক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। বিকেলের ম্লান আলো তার মুখে পড়ে কেমন এক বিষণ্ণ আভা তৈরি করেছে। তাকে দেখে সাগরের বুকটা হঠাৎ কেমন নরম হয়ে আসে। অদ্ভুত এক মায়া তাকে ঘিরে ধরে। সে ভাবতে থাকে, কেন সে এতদিন নদীকে এড়িয়ে গেছে? কেন তার খোঁজ নেয়নি? কেন তাকে কষ্ট দিয়েছে? এই প্রশ্নগুলো একসাথে এসে তাকে ভেতর থেকে আঘাত করে। নদী কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর কবিতার মতো করে বলে ওঠে–
‘আমি কে, সাগর?’‘তুমি ফুল। শিউলি ফুল।’ ‘শিউলি কেন?’‘শিউলি রাতে ফোটে, ভোরেই ঝরে যায়!’‘তুমি কে, সাগর?’‘আমি গাছ। শিউলি গাছ।’ ‘গাছ কেন?’‘গাছ কখনো ফুলকে পায় না।’ ‘সে ধারণ করে, আগলে রাখে আর ফুল ঝরে গেলে সে অন্য কারো।’‘আমরা কে, সাগর?’‘সংসার!’‘সংসার?’ ‘হুম। না হওয়া সংসার দুইজন দুইজনের হয়েও, কেউ কারো নই!’